Home / Blog / টিকা না দেওয়ায় পুঁটিকে হারিয়েছি: বিড়...

টিকা না দেওয়ায় পুঁটিকে হারিয়েছি: বিড়ালের প্যানলিউকোপেনিয়া

27 Sep 2026   |   👁 30 Views   |   💬 0 Comments
Share this post Facebook WhatsApp
পানির বাটির সামনে কুঁজো হয়ে বসে থাকা অসুস্থ বিড়ালছানা, প্যানলিউকোপেনিয়ার একটি লক্ষণ

কয়েক বছর আগের এক বর্ষা। শনির আখড়া কাঁচাবাজারের মাছের দোকানের পাশ থেকে সাদা-ধূসর একটা ছানা তুলে এনেছিলাম। নাম রাখলাম পুঁটি, পুঁটি মাছের মতোই ছোট আর চঞ্চল। টিকার কথা যে জানতাম না, তা না। মিনির টিকা তো সময়মতোই দিয়েছিলাম। কিন্তু পুঁটির বেলায় ভাবলাম, "ঘরেই তো থাকে, আরেকটু বড় হোক।"


সেই "আরেকটু" আর আসেনি।


তিনটা দিন

প্রথম দিন পুঁটি খাবারের বাটির দিকে তাকালোই না, সারাদিন ঝিমিয়ে থাকল। দ্বিতীয় দিন শুরু হলো হলুদ ফেনার মতো বমি, তারপর দুর্গন্ধওয়ালা পাতলা পায়খানা। সন্ধ্যায় দেখি পানির বাটির সামনে মাথা নিচু করে বসে আছে, কিন্তু পানি খাচ্ছে না। তৃতীয় দিন সকালে ভেটের কাছে রওনা দিলাম, জ্যামে আটকে থাকলাম ঘণ্টাখানেক। ভেট পরীক্ষা করে শুধু বললেন, "প্যানলিউকোপেনিয়া। অনেক দেরি হয়ে গেছে। একই ঘরে থেকেও মিনির কিছু হয়নি। ওর টিকা দেওয়া ছিল।


ঢাকায় এই রোগ কতটা কমন?

পরে পড়াশোনা করে জানলাম, আমি একা নই। ২০২২ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ঢাকার কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালে আসা ১৫৩টি বিড়ালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩০%, ছিল এই রোগ। আর দেশের ৮৪৩ জন বিড়াল মালিকের এক জরিপে মাত্র ৫৪% জানিয়েছেন তাঁদের বিড়াল টিকা পেয়েছে। [Ref 1]


প্যানলিউকোপেনিয়ার লক্ষণ (দেখামাত্র ভেট)

  • হঠাৎ খাওয়া বন্ধ, নিস্তেজ ভাব
  • বারবার বমি (হলুদ বা সবুজ ফেনা)
  • দুর্গন্ধযুক্ত বা রক্তমেশানো পাতলা পায়খানা
  • পানির বাটির সামনে কুঁজো হয়ে বসে থাকা
  • জ্বর, অথবা শরীর অস্বাভাবিক ঠান্ডা


ছানাদের বেলায় কয়েক ঘণ্টার দেরিও অনেক। ঘরে বসে স্যালাইন বা মানুষের ওষুধ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না, সোজা ভেটের কাছে যান।


"ঘরের বিড়াল" কেন নিরাপদ না

এই ভাইরাস খুব শক্ত। মেঝে, জুতা আর বাজারের ব্যাগে অনেকদিন টিকে থাকে। আমি নিজেই হয়তো মাছের বাজার থেকে জুতায় করে এনেছিলাম। সাধারণ সাবান-পানিতে এটা সহজে মরে না। ভেট আমাকে বিড়ালদের অন্য ঘরে সরিয়ে পাতলা করা ব্লিচ দিয়ে মেঝে মুছতে বলেছিলেন, তারপর পরিষ্কার পানি দিয়ে আবার মুছতে।


পুঁটির পর আমার ঘরের নিয়ম

  • ২ মাস বয়সে ট্রাইক্যাটের প্রথম ডোজ, ৩ মাসে দ্বিতীয় ডোজ আর র‍্যাবিস, ৪ মাসে তৃতীয় ডোজ। পুরো সময়সূচি দেখুন [বিড়ালের টিকা ও কৃমির ঔষধের সময়সূচি] লেখায়।
  • নতুন কোনো বিড়াল এলে পুরনোদের থেকে অন্তত দুই সপ্তাহ আলাদা রাখি।
  • বাজার থেকে ফিরে জুতা দরজার বাইরে রাখি, হাত ধুয়ে তবেই বিড়াল কোলে নিই।


লাড্ডু যেদিন দুই মাসে পা দিলো, ক্যালেন্ডারের সেই তারিখটা আমি লাল কালি দিয়ে গোল করে রেখেছিলাম। পুঁটি আমাকে এটুকু শিখিয়ে গেছে।


আপনার বিড়ালের কি টিকা দেওয়া হয়েছে? না হলে এই সপ্তাহেই ভেটের সাথে একটা সময় ঠিক করুন, আর কমেন্টে জানান।

এই লেখা আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রেজিস্টার্ড ভেটের কাছে যান।

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts.

Leave a comment

Your email address will not be published. Comments appear after approval.

0 / 2000
0